
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৭টায়। এ জামাতে দেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম। তিনি জানান, ঈদের প্রধান জামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মুসল্লিদের প্রবেশের জন্য চারটি গেট এবং বের হওয়ার জন্য সাতটি গেট রাখা হয়েছে, যাতে নামাজ শেষে মানুষের ভিড় নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
আয়োজকরা জানান, মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সিটি করপোরেশন এবং অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে প্রধান জামাত সকাল ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য বিকল্প প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে আশপাশের সড়কগুলোতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং পার্কিং ব্যবস্থাপনায় আলাদা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
এছাড়া ঈদের পর নগর পরিচ্ছন্নতা নিয়েও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম জানান, কোরবানির বর্জ্য ৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পশুর বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে, যাতে ড্রেন ও রাস্তা পরিষ্কার রাখা যায়।
প্রতি বছর ঈদের প্রধান জামাত জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গসহ বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। এটি দেশের অন্যতম বড় ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে বিবেচিত।
এবারও ঈদকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা, সুসংগঠিত ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সব মিলিয়ে রাজধানীর ঈদ জামাত ঘিরে নেওয়া প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। মুসল্লিরা শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছে আয়োজকরা।